আধুনিক ‘ইউনিকোড’ ভাষা প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত এই পাতাটি এখান থেকে নেওয়া। আনন্দবাজার পত্রিকায় আধুনিক বাংলা ভাষা প্রযুক্তি ব্যবহারের আবেদন সমর্থন করুন।

১৬ পৌষ ১৪১৬ শুক্রবার ১ জানুয়ারি ২০১০

বন্যায় জমা বালির স্তর সরেনি জমি থেকে

প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ চাষিরা

পীযূষ নন্দী • আরামবাগ

ন্যার সময়ে নদীগুলির বাঁধ ভেঙে প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে বালির স্তর জমে যায়। বন্ধ হয়ে যায় রবিশস্য ও গ্রীষ্মকালীন চাষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে ভাবে কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় সেই বালি আজও সরানো হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে লাগাতার বিক্ষোভ দেখালেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। হুগলির আরামবাগ মহকুমার গোঘাট ১ ও ২ ব্লক ছাড়াও পুড়শুড়া, আরামবাগ ও খানাকুল ১ ও ২ ব্লকের মোট ২৩টি পঞ্চায়েত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় মোট ১৮১টি এলাকায় নদী বাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছিল। দামোদর নদ ও মুণ্ডেশ্বরী নদীর কোথাও ২০ হাজার ফুট, কোথাও বা দু’শো ফুট ভেঙে যায়। চাষিদের অভিযোগ, “বন্যার পরে ব্লক, মহকুমা এবং জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছিল রবি চাষের আগেই জমির বালি তুলে দেওয়া হবে। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে জমির বালি তুলে ভাঙা বাঁধ মেরামত করা হবে। সরকারের ওই পরিকল্পনায় আমরা ভরসা পেয়েছিলাম। কেননা, তাতে মানুষ কাজও পাবেন, জমির বালি উঠে গিয়ে চাষ যোগ্য হবে এবং নদীবাঁধ সংস্কার হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।”

এলাকার চাষিদের অভিযোগ, “বন্যার পর মাসখানেক প্রশাসন এবং নেতারা সক্রিয় থাকেন। প্রতিশ্রুতি আর পরিকল্পনার ঝড় বয়ে যায়। তারপর পঞ্চায়েত বা ব্লকে গেলেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত প্রধানেরা বলছেন এটা ব্লকের কাজ আর বিডিওরা বলছেন কাজটা পঞ্চায়েতের।” এ বার ওই এলাকায় আলু, গম বা সর্ষে চাষ হয়নি। আরামবাগের হরিণখোলা ১ ও ২, মলয়পুর ১ ও ২, আরাণ্ডি পঞ্চায়েত, খানাকুল ১ ব্লকের রামমোহন ২, ঠাকুরানিচক, ঘোষপুর, অরুণ্ডা, বালিপুর এবং তাঁতিশাল পঞ্চায়েত, খানাকুল ২ ব্লকের শাবলসিংহপুর, চিংড়া, জগৎপুর, মাড়োখানা, ধান্যগোড়ি, পলাশপাই ১ পঞ্চায়েত এবং পুড়শুড়া ব্লকের চিলাডাঙি, শ্রীরামপুর, পুড়শুড়া ২, কেলেপাড়া, শ্যামপুর ও ভাঙামোড়া পঞ্চায়েতর কয়েকশো চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অভিযোগকারী চাষি রতন পালুই, মদন মিদ্দা, ঘণ্টেশ্বর মালিক, বিজন পালেরা বলেন, “প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এ বার রবি চাষ হল না। এরপরে বাদাম, তিল, বোরো ধান চাষও করা যাবে না। অধিকাংশ বাসিন্দার ১০ কাঠা থেকে ২ বিঘা জমিই সম্বল। আমরা কী ভাবে বাঁচব? কী ভাবে সংসার প্রতিপালন করব সে নিয়ে কারও চিন্তা নেই।” মহকুমা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বালি ঢুকে যাওয়ায় জমিগুলিতে চাষের সমস্যা রয়েছে। কিছু চাষি নিজের খরচে জমি উদ্ধার করে চাষ করছেন। মহকুমা কৃষি আধিকারিক অশ্বিনীকুমার কুম্ভকার বলেন, “জমি উদ্ধার না হলে আমরা চাষিদের তরমুজ জাতীয় ফসল চাষের পরামর্শ দিচ্ছি।” তাঁর আবেদন, “পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসন বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে চাষিদের সমস্যার সমাধান করুক।”

একশো দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে জমি থেকে বালি তুলে বাঁধ মেরামতের কমর্সূচি নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ পঞ্চায়েত প্রধানদের বক্তব্য, “বিষয়টি নিয়ে বিডিওরা কিছু বলছেন না। এ ধরনের স্কিম বাৎসরিক অ্যাকশন প্ল্যানেও নেই। আমরা কী ভাবে স্কিম তৈরি করব তা বুঝতে পারছি না।” বিডিওদের বক্তব্য, “প্রথমত পঞ্চায়েত থেকে স্কিম পাঠায়নি। তা ছাড়াও জেলা থেকে কোনও লিখিত বা মৌখিক নির্দেশ নেই। এ কাজে সেচ দফতরকে যুক্ত করা দরকার। তাঁরাই বাঁধ মেরামতির স্কিম ভাল করতে পারবেন। আমাদের কাছে স্কিম এলেই জেলায় পাঠাব।” বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করায় জেলা পরিষদের সভাধিপতি সিপিএমের অসিত পাত্র ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, “নিজেদের অপদার্থতা ঢাকতে অজুহাত খাড়া করছে পঞ্চায়েত ও ব্লকগুলি। স্কিম বার্ষিক প্ল্যানে না থাকলেও গুরুত্ব অনুযায়ী তা করা হয়। স্কিম পাঠালেই কাজ হবে।” জেলাশাসক অশ্বিনীকুমার যাদব বলেন, “১০০ দিনের কাজ প্রকল্প পঞ্চায়েতের বিষয়। কেন স্কিম করে পাঠানো হয়নি, কোথায় কী অসুবিধা তা বিডিওদের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখব।”

previous story

dakshinbanga

next story

First Page | Calcutta | State | Uttarbanga | Dakshinbanga | Bardhaman
Purulia
|
Murshidabad | Medinipur | National | Foreign | Business | Sports
Health |
Environment | Editorial | Today | Crossword | Comics | Feedback
Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem