|
কোথাও পরীক্ষার ফলে ত্রুটির অভিযোগে অধ্যক্ষকে
ফুলের মালা পরিয়ে জবরদস্তি মিষ্টি খাওয়ানোর চেষ্টা হল। হল বিক্ষোভ।
আবার কোথাও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির জেরে দু’পক্ষের
মারপিট। এমন নানা ঘটনায় শুক্রবার দিনভর উত্তরবঙ্গের
নানা কলেজে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পঠনপাঠন শিকেয় ওঠে বালুরঘাট,
এবং তুফানগঞ্জ কলেজে। তুফানগঞ্জে তৃণমূল ছাত্র
পরিষদ এবং ডিএসও-র ছাত্রদের সংঘর্ষে ৪ জন জখম
হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের
এক জনকে কোচবিহার জেলা সদর হাসপাতাল ও অন্য জনকে তুফানগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে।
প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য
বিভাগের পরে কলা বিভাগের পরীক্ষার ফলেও ব্যাপক অসঙ্গতির অভিযোগে এ দিন ছাত্র-বিক্ষোভে
উত্তাল হয়ে ওঠে বালুরঘাট কলেজ। পরীক্ষার ছ’মাস বাদে ফল প্রকাশ হলেও, মার্কশিট
ভুলে ভরা-- এই অভিযোগে প্রায় দিনভর বিক্ষোভ
হয়। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়সারা ভাবে কাজ
করার অভিযোগে এসএফআই, পিএসইউ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও ডিএসও-র নেতৃত্বে আলাদা ভাবে ছাত্রছাত্রীরা
আন্দোলনে নামেন। মাইক নিয়ে স্লোগান দিয়ে অধ্যক্ষকে ঘেরাও শুরু হয় সকাল ১০টা
থেকেই। একাধিক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কুশপুতুল পোড়ায়। তৃণমূল ছাত্র
পরিষদ উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ায়। ছাত্র সংগঠন পিএসইউ সদস্যদের
একাংশ কলেজের অধ্যক্ষ বটকৃষ্ণ পালকে কালো ব্যাজ
পরিয়ে তাঁর পায়ের নীচে শুয়ে প্রতিবাদ জানান।
এমনকী, অধ্যক্ষকে ফুলের মালা পরিয়ে জোর করে মিষ্টি খাওয়ানোর চেষ্টা হয়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপা
দত্তকে সব জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘেরাও মুক্ত হন
অধ্যক্ষ ।
কলেজের
ছাত্রছাত্রীরা জানান, পাস কোর্সে ৯৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২০ জনের ফলই অসম্পূর্ণ বলে ৩২০ জনের
ফলই অসম্পূর্ণ বলে মার্কশিটে উল্লেখ রয়েছে। অনার্সের রেজাল্টেও প্রচুর ভুল রয়েছে। প্রথম বর্ষের বাংলা অনার্সের পড়ুয়া কৌশিক
কবিরাজের দাবি, “পাস কোর্সে দর্শন বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু পাসের দ্বিতীয় পত্রে ইতিহাসের উল্লেখ করে অসম্পূর্ণ ফল দেখানো হয়েছে।” বাংলা অনার্সের রণেন মোহান্তের ফলেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পরীক্ষা দিলেও তাঁর রেজাল্টে তিনটি পত্রে ভূগোলকে বিষয় দেখিয়ে অসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ রয়েছে। কলেজের সাধারণ সম্পাদক তথা পিএসইউয়ের নেতা অনির্বাণ খাসনবিশ বলেন, “গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে আমরা শঙ্কিত। পড়ুয়াদের
ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা রথীন্দ্রনাথ দে সরকারের প্রতিক্রিয়া, “পরিকাঠামো না-গড়ে তড়িঘড়ি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়েছিল। সে কথা শোনা হয়নি বলেই এখন ছাত্রছাত্রীদের ভুগতে হচ্ছে।” এসএফআইয়ের কলেজ শাখার নেতা পার্থ রায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রেসিডেন্সির স্বশাসন নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। অথচ, উত্তরবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের বঞ্চনার ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ। এমন রেজাল্ট আমরা মানব না।” আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল সংশোধন না হলে গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে এসএফআই
লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে।
তুফানগঞ্জ কলেজে ঝামেলার সূত্রপাত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে। প্রত্যাহার-প্রক্রিয়া দেখতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং ডিএসও-র সদস্যেরা ভিড় করেছিলেন। সেই সময়েই তাঁদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চলে। ডিএসও-র জেলা সম্পাদক মৃণালকান্তি সরকারের অভিযোগ, মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি না-হওয়ায়
তাঁদের দু’জনকে মারধর করে জখম করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। তৃণমূল
ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সমীর চক্রবর্তী অবশ্য দাবি করেছেন, “সই জাল করে কয়েকজন ছাত্রের নামে ডিএসও মনোনয়ন দাখিল করেছিল। তা জানতে পেরে প্রত্যাহার করাতে বললে ডিএসও নেতারা বাধা দেন। কথা কাটাকাটি থেকেই গোলমালের
সূত্রপাত।”
মোট ২৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ওই কলেজে। তার মধ্যে ১৩টি আসনে ডিএসও
প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জয় কার্যত সময়ের অপেক্ষা। তুফানগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রাথমিক ভাবে ৯টি আসনের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।” ৪টি আসনে ‘টেকনিক্যাল’ কারণে জয়ী ঘোষণা করা যায়নি বলে কলেজ সূত্রে বলা হয়েছে। সিপিএমের ‘দুর্গ’ তুফানগঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদ ১৯৮৪ সালের পরে এই প্রথম বামবিরোধী ছাত্র সংগঠনের দখলে থাকবে বলে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে।
|